নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নকল-ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে দেশব্যাপী আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৮টি জেলায় একযোগে পরিচালিত এই তদারকি কার্যক্রমে বিভিন্ন অপরাধে ৮২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) অধিদপ্তরের ৪৩টি বিশেষ দল পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ‘Nascafe Coffee’ (নাসক্যাফে কফি), ‘American BBQ Sauce’ (আমেরিকান বারবিকিউ সস) ও ‘Yellow Mustard Sauce’ (ইয়েলো মাস্টার্ড সস)-এর নকল প্যাকেজিং করে বাজারে বাজারজাত করার অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল ও ইন্দ্রানী রায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারার লঙ্ঘনজনিত কারণে ‘দোহা কর্পোরেট’, ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘জুনায়েদ এন্টারপ্রাইজ’—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এসআরবি-১ ও বাড্ডা থানা পুলিশ এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
দেশব্যাপী পরিচালিত এই তদারকিতে গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং নকল-ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের সঠিক রশিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ এবং ক্রেতাদের তা বাধ্যতামূলক প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ক্রয়ের সময় মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (MRP), উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে (১৬১২১) অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।