বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক ধাক্কা সফলভাবে মোকাবিলা করে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোরে দক্ষিণ এশিয়ায় চলতি বছর প্রবৃদ্ধি আগের সমস্ত পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আপডেটে এই আশাব্যঞ্জক চিত্র উঠে এসেছে। তবে একই সঙ্গে ক্রমাগত উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং সম্ভাব্য তীব্র এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে কিছু নিম্নমুখী ঝুঁকি রয়ে গেছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এই দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক চিত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আফ্রিকা অঞ্চলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি গতিশীল হলেও তা দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য পর্যাপ্ত নয়। পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিকে এআই সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বাড়লেও উচ্চ জ্বালানির দামে ভুগছে দ্বীপ অর্থনীতিগুলো। অন্যদিকে, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও কম্পিউটিং ক্ষমতা ও ডেটা প্রস্তুতির অভাবে এআই-এর পূর্ণ সুফল মিলছে না। ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি মাঝারি হলেও বাহ্যিক ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা দেখা গেছে। সবচেয়ে করুণ চিত্র মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে; চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকোচন ঘটছে। এর বাইরে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির ধারা ইতিবাচক থাকলেও উন্নত বিশ্বের তুলনায় এআই ব্যবহারে অঞ্চলটি এখনও পিছিয়ে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এই অঞ্চল এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস উন্মোচন করতে হলে দ্রুত এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
এআই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা জোরদার করা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা এবং শারীরিক ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়ন সাধন করা। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা, স্থানীয় পর্যায়ে এআইভিত্তিক উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ডেটার সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে একটি স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।