স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধের জন্য বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে এক যুগান্তকারী রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 'ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন' মামলার রায়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন, যা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে বলা হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক দেনমোহর দেওয়া স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। এমনকি বিলম্বিত দেনমোহরও স্ত্রী দাবি করা মাত্রই স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে দেনমোহর না দিয়ে আদায়ের জন্য আদালতে যেতে বাধ্য করে কিংবা হয়রানি করে, তবে বিচারিক আদালত ওই স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন। কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত জানান, দেনমোহর স্ত্রীর একচ্ছত্র অধিকার; তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বেচ্ছায় মওকুফ না করলে তা কমানো বা মওকুফ করার কোনো এখতিয়ার আদালতেরও নেই।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হওয়া এক দম্পতির পরবর্তীতে বিচ্ছেদ ঘটে। স্ত্রী দেনমোহর ও কন্যাসন্তানের খোরপোশ চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করলে ২০২২ সালে আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দেন। ওই রায়ে দেনমোহর ও বকেয়া খোরপোশসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়।
স্বামী ব্যবসায়িক ক্ষতির দোহাই দিয়ে কিস্তিতে টাকা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিভিশন করেন। তবে হাইকোর্ট তাঁর আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে পারিবারিক আদালতের আদেশই বহাল রাখেন এবং সম্পূর্ণ বকেয়া অনতিবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্বান্তের ফলে দেনমোহর নিয়ে নারীদের হয়রানি কমবে এবং পারস্পরিক সমঝোতার পথ সুগম হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন আইনজীবী।