বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। বৈঠকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাশিরও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তাঁর ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এ ছাড়া মামলার পলাতক আসামিদের প্রসঙ্গে আবরারের বাবা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক আসামির পালানোর বিষয়টি তুলে ধরেন এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বৈঠকে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তিনি জানান, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের তাৎক্ষণিক আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতিও দেন। একই সঙ্গে আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য পরিবার সহযোগিতা চাইলে প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির কাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার জোরালো নির্দেশনা দেন।
আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তাঁর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান আবরার ফাইয়াজ। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের মতো অতীতে বিভিন্ন সময়ে নিহতদেরও একটি সরকারি তালিকা করার দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।
বৈঠকে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো বিভীষিকাময় পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে আর খালি না হয়।"
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালে বিচারিক আদালত ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, যা ২০২৫ সালের মার্চে হাইকোর্টও বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।