ঢাকা, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩৩, ২১ রবিউল সানি ১৪৪৮

শার্টের নিচে লুকানো সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণসহ মালেশিয়ান নাগরিক আটক



শার্টের নিচে লুকানো সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণসহ মালেশিয়ান নাগরিক আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়ালালামপুর থেকে আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এক যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে চার কেজি স্বর্ণ জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আটককৃত ব্যক্তি মালয়েশিয়ার নাগরিক, যার নাম ইয়ং ডন সিউ (৪৩)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘এমএইচ-০১৯৬’ নম্বর ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইট থেকে নামার পর থেকেই ওই যাত্রীকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে তিনি ব্যাগেজ বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিতে তার শার্টের নিচে অভিনব কায়দায় কালো কাপড়ের বেল্টে পেঁচিয়ে রাখা অবস্থায় চার কেজি পাঁচশত গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ৯টি বার ২৪ ক্যারেটের মানসম্পন্ন।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আটক যাত্রীর কাছে ১ কেজি ওজনের চারটি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। তিনি বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি। এমনকি প্রচলিত ‘কাস্টমস আইন ২০২৩’ ও ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল অ্যাক্ট ১৯৪৭’ অনুযায়ী স্বর্ণের স্বপক্ষে কোনো বৈধ নথি বা দলিলাদি প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। এ ঘটনার পর আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্যে ‘কাস্টমস আইন ২০২৩’-এর ১৯১ ধারা অনুযায়ী উদ্ধারকৃত স্বর্ণ সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অবৈধ উপায়ে বিদেশের বাজার থেকে স্বর্ণ এনে বাংলাদেশে পাচারের এই অপচেষ্টা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে শার্টের নিচে, জুতার সোল, চার্জার লাইট, এমনকি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আটক করেছে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় ব্যাগেজ রুলের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশিদের ব্যবহার করে এমন চোরাচালান চালিয়ে আসছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে বিমানবন্দরে তল্লাশি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।


   আরও সংবাদ