মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ গ্রহণ না করলে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউসের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও সুরক্ষাকবচ তৈরির দাবির মুখেই ট্রাম্প মূলত শব্দটিকে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করার এই প্রচারণা আরও উসকে দিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, হোয়াইট হাউস এমন যে কাউকে ‘শত্রু’ মনে করে, যিনি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া নতুন এবং আরও সঠিক শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) শব্দটি ব্যবহার করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা সংক্ষেপে ‘এসআই’ হিসেবে পুনঃনামকরণ করা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই রিব্র্যান্ডিং প্রচেষ্টারই অংশ, যার মূল লক্ষ্য দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তির ওপর ইতিবাচক আলো ফেলা। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্টের ঢুকে পড়ার ঘটনা সামনে আসার পর, এর নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ মোকাবিলায় উপযুক্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা গার্ডরেইল রয়েছে কি না—তা নিয়ে আইনপ্রণেতা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের তীব্র নজরদারির মুখে পড়েছে এই খাত। তবে এআই-এর বিকাশকে অতিরিক্ত সীমাবদ্ধ করার দাবিগুলোকে ট্রাম্প অনেকটা উড়িয়েই দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে শতকোটিপতি নির্বাহীদের সাথে এক বৈঠকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য সামগ্রিকভাবে কল্যাণকর এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটির মাধ্যমে প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতাকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব এবং এরই মধ্যে তিনি খাতের শীর্ষ কিছু নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই পরিভাষা ব্যবহারে রাজি করিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে হোয়াইট হাউস তাদের ওয়েবসাইটের এআই সংক্রান্ত পাতাও এরই মধ্যে হালনাগাদ করেছে। সেখানে পুরনো ‘এআই’ শব্দটি মুছে ফেলে তার জায়গায় ‘এসআই’ বসানো হয়েছে, যদিও ওয়েবসাইটের মূল ডোমেইন নামটি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া হোয়াইট হাউসের মূল পাতায় থাকা ‘এআই অ্যাকশন প্ল্যান’-এর বিবরণ বদলে সেখানে এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে রিব্র্যান্ড করার সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের উল্লেখ যুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিশিল্পের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরাও ট্রাম্পের এই ধারা অনুসরণ করতে শুরু করেছেন; যার অংশ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি তার এআই কোম্পানি ‘স্পেসএক্স এআই’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্স এসআই’ রাখবেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ক এবং এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মাননা ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ তুলে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্সির পুরো সময়জুড়েই প্রচলিত বিভিন্ন নামের পরিবর্তন ঘটাতে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি ভূরাজনৈতিক বা ভৌগোলিক বিভিন্ন বিষয়ের নাম পরিবর্তনের নানা উদ্যোগ নিয়েছেন; যার মধ্যে ‘মেক্সিকো উপসাগর’-কে ‘আমেরিকা উপসাগর’ এবং ‘লেক অন্টারিও’-কে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি দক্ষিণে অবস্থিত ওই উপসাগরটির জন্য তার প্রস্তাবিত নতুন নাম গ্রহণ না করায়, ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-কে হোয়াইট হাউসের একাংশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টাও করেছিল।