বিনিয়োগের চরম সংকোচন, শিল্পে জ্বালানি সংকট এবং নজিরবিহীন ঝুঁকিতে পড়া ব্যাংক খাতের প্রভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। একই সাথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীরগতির প্রবৃদ্ধির ধাক্কায় নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন অন্তত ২১ লাখ মানুষ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর অবস্থাকে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সিংহভাগ ব্যাংক চরম মূলধন-ঘাটতিতে ভুগছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ থমকে যাওয়ায় এবং শিল্প খাতের উৎপাদন সংকুচিত হওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়ে দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার হিসাবে নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। এর পাশাপাশি আয়বৈষম্যও আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ও বাজেট বাড়ায় বাধ্য হয়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকেই অধিকাংশ ঋণ গ্রহণ করছে। এতে বেসরকারি খাত পর্যাপ্ত ঋণ না পেয়ে কারখানা বন্ধ বা কর্মঘণ্টা কমাতে বাধ্য হচ্ছে, যা কর্মসংস্থানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কঠোর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।