আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করলেই অনেকের জয়েন্টে ব্যথা, আড়ষ্টতা, ঘন ঘন সর্দি-কাশি এবং হজমের সমস্যা দেখা দেয়। মূলত ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক কিছু প্রদাহ-বিরোধী (অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি) খাবার রাখলেই খুব সহজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে এসব অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
১. হলুদ (কারকিউমিন):
centuries ধরে পরিচিত হলুদে থাকা 'কারকিউমিন' উপাদানটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-বিরোধী হিসেবে কাজ করে। এটি জয়েন্টের ব্যথা ও পেশীর আড়ষ্টতা দূর করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গোলমরিচের সঙ্গে হলুদ খেলে এটি শরীরে দ্রুত শোষিত হয়। প্রতিদিনের ডাল, তরকারি, কিংবা ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম হলুদ-দুধ বা ভেষজ চা শরীরকে উষ্ণ রেখে প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
২. আদা:
আদায় রয়েছে 'জিঞ্জেরল' নামক বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান, যা শীতকালীন পেশীর ব্যথা, জয়েন্টের অস্বস্তি ও গলার জ্বালা কমাতে অনন্য। এটি শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং হজমে দারুণ সহায়তা করে। তাজা আদা কুচি করে স্যুপ, তরকারি বা স্মুদিতে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া লেবু ও মধু দিয়ে গরম আদা চা খেলে ঠান্ডাজনিত ব্যথা ও গলা ব্যথায় দ্রুত আরাম মেলে।
৩. ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তৈলাক্ত মাছ:
স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকেরেলের মতো তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যেহেতু আমাদের শরীর নিজে থেকে এই এসেনশিয়াল ফ্যাট তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করা জরুরি। এটি জয়েন্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়। সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার গ্রিল বা বেক করা তৈলাক্ত মাছ খেলে শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সহজ ভাষায়, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে প্রতিদিনের খাবারে হলুদ, আদা ও ওমেগা-৩ যুক্ত মাছ রাখলে প্রাকৃতিক উপায়েই শরীর সুস্থ, ব্যথামুক্ত ও চাঙ্গা থাকবে।